নবাব ও কমিউনিস্ট

Updated: Aug 16

বাংলাদেশের নিরীহ ময়মনসিংহের চৌধুরী বংশের এক জমিদার আর বাংলার ইতিহাসের নবাব সিরাজুদ্দলাহ-কোথায় যেন মিশে এক হয়ে যায় ।

মুর্শিদাবাদের রাজ্যছাড়া নবাব ...কাশ্মীরের বাঙালি মোহনলাল ...আর এক কমিউনিস্ট-এর আত্মত্যাগ এক সুরে বেঁধে দেয় এতগুলো জীবন ।

নবাব থেকে সর্বহারার লড়াই-সত্যি কি বিচিত্র এ দেশ সেলুকাস !

১৭৫৭ র জুন মাসের এক দুপুর ।

যুদ্ধ্যক্ষেত্রে সেনাপতি মীরমদনের পতন হয়েছে । ছন্নছাড়া সিরাজের বাহিনী । সিরাজুদ্দলাহ ডেকে পাঠালেন তার সেনাপতি মীরজাফরকে ।

প্রিয় মিত্র আরেক সেনাপতি মোহনলালের বারণ শুনলেন না ।

সুযোগ বুঝে সিরাজকে পরদিন সকাল অবধি অপেক্ষা করানো আর ওদিকে ইংরেজদের আক্রমণের

আহ্বাণ -

মীরজাফরের ছল সেদিন পাল্টে দিয়েছিলো বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসের পথচলা।


যুদ্ধক্ষেত্রে তখন নবাব সৈন্যরা দিশাহারা ,প্রমাদ গুনলেন মোহনলাল -তার যে সিরাজের সাথে বিশেষ সম্পর্ক -তার বোন আলেয়া যে সিরাজের স্ত্রী । তার মুর্শিদাবাদের বাড়িতে আছেন সিরাজ পুত্র। যুদ্ধক্ষেত্রে রটিয়ে দিলেন যে মোহনলাল মৃত , সিরাজ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালালেন ময়মনসিংহ এলাকার বোকাইনগর গ্রামে।

সেখানকার জমিদার শ্রীকৃষ্ণ রায় চৌধুরীর ছোট ছেলে গোপালকৃষ্ণ নিঃসন্তান -ব্যবস্থা করলেন গোপনে দত্তকের ।

সিরাজের ছেলের আসল পরিচয় জানলেন তিনজন-শ্রীকৃষ্ণ রায় চৌধুরী,মোহনলাল আর মোহনলালের এক বিশস্ত সঙ্গী আর বাকি সবাই জানল যে -সে হিন্দু সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক সন্তান।

নাম বদলে সে হলো যুগলকিশোর রায় চৌধুরী ।

মোহনলালও সন্ন্যাসীর বেশে এসেছিলেন সেই অনুষ্ঠানে ।

যুগলকিশোরের গল্প অন্য একদিন , ফিরে আসি মূল ঘটনায়।

বারবার নাম বদলে ,জমিদারি বদলে-তার বংশধররা আজও বর্তমান -কেউ বাংলাদেশে , কেউ বা ভারতে , কেউ স্টেটস ।

বংশপরম্পরায় তাদের ইতিহাস গোপন করে রয়ে গেছেন পর্দার আড়ালে ।


বঙ্কিমচন্রের লেখায় দেবীচৌধুরী রানীতে যে ভবানী পাঠকের উল্লেখ আমরা পাই -ঐতিহাসিক অমলেন্দু দে তার বই " সিরাজের পুত্র ও বংশধরের সন্ধানে" তে বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও রিসার্চ এর সাহায্যে তার বিশ্বাস জন্মেছিলো যে এই ভবানী পাঠকই মোহনলাল ,কারণ তাদের সময়কাল এক । গল্প ও বাস্তবের প্রেক্ষাপটের অঞ্চল এক আর বঙ্কিমের এক সহপাঠী ছিলেন সেই বংশের ছেলে-আমাদের গল্পের কমিউনিস্ট ।

তার নাম শরদিন্দু দে - পরিচয় লুকোনোর আড়ালে তখন তাদের বংশ পদবি রায়চৌধুরী থেকে বদলে 'দে' , রক্তে নবাবী রক্ত- কিন্তু সেই শরদিন্দু কিনা ভালোবেসে ফেললেন কমিউনিস্ট পার্টিকে । জেল আর গা ঢাকা দিয়ে থাকলেন ২০ বছর ।


কমিউনিস্ট পার্টি তখন নিশিদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানে।

১৯৬৯ নাগাদ ফিরে এলেন ভারতে ।


ত্রিপুরার কমিউনিস্ট পার্টি তাকে থাকতে জায়গা দিলেন আগরতলায় -স্বাধীনতা সগ্রামী এক নবাবী বংশধর জীবনটা কাটিয়ে দিলেন কমিউনিস্ট হয়ে অগোচরে -

শেষ টা করি যদুনাথ সরকারের মন্তব্যে-

"

Thus ended Muslim rule in Bengal ; the foreign master of the sword had become its Kingmaker..."


আরো জানতে পড়তে পারেন অমলেন্দু দের সিরাজের পুত্র ও বংশধরের সন্ধানে....

 

©2020-www.hatekhori.net

Contact Us at admin@hatekhori.net

You can also email your queries and Articles to the above email