মহালয়া-অচিন আগন্তুক

Updated: Jul 19

কিরে ওঠ, শুনবি না, শুরু হবে এখুনি তো, কিরে ওঠ..


ভোর হল, রেডিও অন হল, সকলে ওঠো রে,

শুরু হল মহালয়া, আধ্ঘুম ভাঙো রে..


শিশিরভেজা ঘাস, ঝাপসা জানলার কাচ, ঝাপসা চোখ, চাদর গায়ে অল্প শোনা, অল্প ঘুম, সবকিছু একই আছে, একই থাকবে.. শারদপ্রাতে সেই এক খুব আপন গলা, সেই জাগলো তোমার গান.. সব মিলে সবাই খুব নস্টালজিক..


টুপুর চোখটা অল্প খুলল, তার পাশে কুকুরটা এখনো ঘুমাচ্ছে.. এই কুকুরটা ওকে কখনো ছেড়ে যায় না.. শুধু বাকিরা ছেড়ে যায়, সমাজ ও ছেড়ে যায়.. ভোর হতে চলল.. চারপাশে প্যান্ডেল হচ্ছে.. সারা বছরের অস্থায়ী থাকার জায়গাটা তাদের ছেড়ে দিতে হয়েছে একমাস আগে.. সেখানে প্যান্ডেল হয়েছে, কয়েকদিন বাদে ঠাকুর বসবে.. কত আলো, কত ভিড়, শুধু সে যেতে পারে না সেখানে, তাকে দেখলে সবাই নাক কুঁচকায়.. তাই সে চলে এল এই ব্রীজের নিচের অন্ধকারে..


সেই ছোটবেলায় মায়ের হাত ধরে এই শহরে আসা.. মা যেন কোথায় হারিয়ে গেল.. সে বড় হল.. কেন যে বড় হল সে, তাহলে কি এত কষ্ট হতো তার, প্রতিদিন এই সময়টা টুপুরের আধ্ঘুম চোখ এসব ভাবে, এরকম একটা ভোরেই তো সেই দুজন তাকে জোর করে নিয়ে গিয়েছিল, তাকে মেরেছিল.. বাকীগুলো তো টুপুরের তখন অজানা, খুব ব্যাথা হয়েছিল.. আজ সে বোঝে সব.. আজ ঐ ঠাকুর যেখানে রাখা হবে, সেখানেই তো সব হয়েছিল..


সেদিনও পাশে কোথাও এই সুরটা বাজছিল.. খুব কষ্ট হয়েছিল তার, ওরা বলেছিল, কাউকে বললে মেরে ফেলবে.. কাউকে বলেনি টুপুর, রাস্তার জমে থাকা জল দিয়ে নিস্বব্দে রক্তটা মুছেছিল সে, খুব কেদেছিল টুপুর.. পরে সে শুনেছে আজ কিসব মহালয়া নাকি, আজ থেকে নাকি সবাই খুব আনন্দ করে.. নতুন জামা পরে.. কিন্তু তার কাছে তো আজ মানে সেই দুজন..


আজও সে ভয় পায়, এরকম আনন্দে ওদের মত যদি কেউ আসে, এতে নাকি ওদের মত লোকদের আনন্দ আরও বাড়ে..


টুপুরের চোখ দিয়ে জল নামে.. মনে পরলেই কেঁপে ওঠে সে, সেই মার, সেই ব্যাথা..


আর সেই রক্ত..


দূরে কোথাও কোন রেডিওর সুরে তখনই শুরু হল দেবিপক্ষের আহবান.. জাগো.. টুপুর চোখটা আবার বুজে ফেলল..

 

©2020-www.hatekhori.net

Contact Us at admin@hatekhori.net

You can also email your queries and Articles to the above email